বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৩৬
মার্কিন প্রতিনিধির জোরাজুরিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে আরাকচি-উইটকফ বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে মার্কিন প্রতিনিধির প্রবল জোরাজুরির মুখে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি জারি করাই এই বৈঠকের অনুরোধ গ্রহণ করার মূল কারণ বলে জানা গেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের মধ্যে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মার্কিন পক্ষের প্রবল জোরাজুরির মুখে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত না হওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রবল, তবে মার্কিন প্রতিনিধির বারবার অনুরোধ ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত এটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের মূল এজেন্ডা: হরমুজ প্রণালী

এই বৈঠকের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রশ্ন। কৌশলগত গুরুত্বের কারণে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের একটি অন্যতম সংকটপূর্ণ জলপথ।

ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত জারি করা হয়েছে, যা উইটকফের বৈঠকের অনুরোধ গ্রহণ করার মূল কারণ বলে জানা গেছে।

ইরানের শর্তাবলি

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নিচের শর্তগুলো পূরণ ছাড়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না:

সমুদ্র অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার-ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সমুদ্র অবরোধ দ্রুত তুলে নিতে হবে।

বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত-ইরানের সমস্ত বাজেয়াপ্ত সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।

প্রতিরোধের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ-প্রতিরোধের সকল ক্ষেত্রে যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধ করতে হবে।

ইরানের দৃঢ় অবস্থান

বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে তার অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ও স্পষ্টভাবে মার্কিন প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, শর্তগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না।

প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মতো একটি বহুপাক্ষিক ফোরামের সাইডলাইনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি এই আলোচনা ইঙ্গিত দেয় যে, উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রয়েছে।

তবে ইরানের দৃঢ় শর্তাবলি স্পষ্ট করে দেয় যে, যেকোনো সমঝোতার জন্য মার্কিন পক্ষকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha